পড়ন্ত বিকেলে ঝুপ করে সূর্যটা হেলে পড়ল পশ্চিম আকাশের পাদদেশে। পাহাড়ের খাঁজ কেটে তৈরী করা কটেজের ঝুল বারান্দার রেলিং এ হেলান দিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। কোন কথা বলতে ইচ্ছে হলো না কারো সাথেই। কারণ এটা কথা বলার সময় নয়। দু’চোখ ভরে প্রকৃতিকে দেখার সময়। এটা প্রকৃতিকে মন দিয়ে বোঝার সময়। নৈঃশব্দের শব্দ অনুভব করার সময়। শিশির সিক্ত গাছের ঝরা পাতা দেখার সময়। চুপচাপ নীরব আর নিস্তব্ধ প্রকৃতিকে উপভোগ করার সময়।

শীতের প্রকোপ বাড়তে থাকলে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারছিলাম না। কড়া শীতে ভারী শীত পোশাকের ভিতর উষ্ণতা খুঁজতে থাকলো শরীর ও মন। ঘরের ভেতরে বিছানায় তুলতুলে নরম কম্বলের মধ্যে নিজেকে ঠেলে দিয়ে আরো ওম খুঁজতে লাগলাম। শীত শীত ভাবটা খানিকটা কমে এলে, একটু কান পাতলাম দু’চোখ বন্ধ করে। কান পাততেই স্পষ্ট শুনতে পেলাম, ধীরে ধীরে ঝরে পড়তে থাকা শিশিরের শব্দ।

কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম জানতেই পারিনি। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার কারণে, রাত থাকতেই ঘুমটা ভেঙে গেল। বিছানায় থেকেই জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরের দিকে চোখ মেলে তাকাতেই দেখলাম, পাহাড়ের গায়ের খাঁজে খাঁজে, ভাঁজে ভাঁজে থাকা গাছেদের সাথে কুয়াশার আলিঙ্গন। মনে হচ্ছে একে অন্যের সাথে গলাগলি করছে , কী এক অজানা সম্পর্কের উষ্ণতার আশায়। বাইরে তখনো গাছের পাতায় শিশির পড়ার শব্দ। রাতজাগা পাখির ডাক ও ডানা ঝাপটানোর শব্দও শোনা যাচ্ছে। অদ্ভুত এই রাতটি অজানা এক উষ্ণ রোমাঞ্চ দিয়ে ভরিয়ে দিল আমাকে।

তখনও সূর্য ওঠেনি। এই হিম শীতল ভোরে , উষ্ণ কম্বলের মায়া ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছিল না একটুও। কিন্তু পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সূর্য উঠা আর সূর্যের আলোয় একটু একটু করে আলোকিত হতে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ দেখার পরে উষ্ণ কম্বলের মায়া ত্যাগের জন্য একটুও আফসোস ছিল না।

লিখেছেন ডালিয়া হোসেন, যিনি প্রাকৃতিক কৃষির পাশাপাশি ট্যুরিজম নিয়ে কাজ করেন।


পুনশ্চ: ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। অপচনশীল যেকোন আবর্জনা যেমন পলিব্যাগ, বিভিন্ন রকম প্লাস্টিক প্যাকেট, যে কোন প্লাস্টিক এবং ধাতব দ্রব্য ইত্যাদি নিজেদের সাথে নিয়ে এসে উপযুক্তভাবে ধ্বংস করুন। এই পৃথিবীটা আমাদের অতএব, এটাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।