বিশাল বিরাট কোন অভিযান কিংবা দুয়েক দিনের ট্রেকিং যাই হোক না কেন, পাহাড়-পর্বতের পথে আপনার ব্যাকপ্যাকে অবশ্যই এই দশটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস থাকা খুবই জরুরী। হয়ত আপনার মনে হতে পারে এসব নিয়ে আবার কাধেঁর ব্যাগটা ভারী করা কেন বাবা..!! এই অবাক প্রশ্নের উত্তর আপনি সেদিনই পাবেন যেদিন বিপদটা আপনার ঘাড়ে এসে পড়বে এবং যখন দেখবেন ঐ দশটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসের ঠিক সেই জিনিসটিই নেই যা কিনা আপনার এই মুহুর্তে প্রয়োজন।

এমন মনে করার কোন কারণ নেই যে, এই দশটি জিনিসের প্রয়োজনীয়তা নিছক আমার অভিজ্ঞতা কিংবা কল্পনাপ্রসূত। ১৯৩০ সালের দিকে বিখ্যাত সব পর্বতারোহী এবং অ্যাডভেঞ্চার প্রফেশনালদের মিলিত প্রচেষ্টায়  প্রথম এই তালিকা প্রণয়ন করা হয় যা কিনা পরবর্তিতে আরো পরিমার্জন আর পরিশীলিত করে আজকের সময়োপযোগী করে তোলা হয়েছে। যাই হোক, আর কথা না বাড়িয়ে আসুন ঝটপট জেনে নেই আপনার শখের ব্যাকপ্যাকটায় সাধের জীবনটাকে বিপদমুক্ত করতে কোন দশটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস যত্ন করে রাখা জরুরী।

১) নেভিগেশনাল ইক্যুয়িপমেন্ট ( ম্যাপ, কম্পাস ও জিপিএস রিসিভার) :

পাহাড়, পর্বত কিংবা গহীন অরণ্যে পথ হারানো যে কি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা তা কেবল ভুক্তভোগীরাই জানেন। আর এই ভয়ংকর বিপদ থেকে মুক্তি পেতে আপনার সাথে অবশ্যই অভিযান এলাকার স্থানীয় টপোগ্রাফিক ম্যাপ থাকা উচিত এবং একই সাথে ম্যাপে আপনার লোকেশনটা সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকাও প্রয়োজন। একটা কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, টপো ম্যাপ বুঝতে পারা যেমন জরুরী তেমনি টপো ম্যাপ দেখে পথ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে আপনার সাথে একটা ভালো মানের কম্পাস বা দিকদর্শন যন্ত্র থাকার আবশ্যকিয়তাও প্রশ্নাতিত।

কালের বিবর্তনে নেভিগেশন সিস্টেম এখন অনেক উন্নত। স্যাটেলাইট ম্যাপ আর জিপিএস রিসিভারের কল্যাণে হারিয়ে যাওয়া পথ খুঁজে পাওয়া এখন নিতান্তই সময়ের ব্যাপার। আর তাই অভিযান শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় পথ আর পয়েন্টগুলো আপনার জিপিএস ডিভাইসে স্টোর করে নিন। এক্ষেত্রে গুগল আর্থের সহযোগিতা নিতে পারেন অনায়াসে। তবে হ্যাঁ, জিপিএস রিসিভার একটা ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র তাই এটা যেকোন সময় কিংবা পরিস্থিতিতে বিকল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। অতএব, জিপিএস ডিভাইসের পাশাপাশি টপো ম্যাপ আর কম্পাস আপনার ব্যাকপ্যাকে থাকতেই হবে।

২) সান প্রোটেকশন কিংবা সূর্যরশ্মিরোধক ব্যবস্থা :

সূর্যের প্রতি আপনার ভালবাসা যতই তীব্র হোক না কেন, বিভিন্ন অভিযানে যখন আপনাকে দিনের পর দিন কড়া সূর্যের নিচে খড় রোদ্দুর মাথায় নিয়ে হাঁটতে হবে তখনই শুধু বুঝতে পারবেন ভালবাসা কারে কয়! আর সেটা যদি হয় কোন পার্বত্য এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচু কোন পথে তখন অতিবেগুনীরশ্মির অতি আদুরে স্পর্শে পুড়ে কয়লা হয়ে যাওয়া চেহারাটার করুণ পরিণতির কথা না হয় বাদ দিলাম কিন্তু নিয়মিত অতিবেগুনীরশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্যান্সারের সম্ভাবনাটা কিভাবে বাদ দেই বলুন!! এতো গেলো ত্বকের কথা, এত সুন্দর পৃথিবীটা দেখি যে চোখ দিয়ে তার কথা একবার ভাবুন। অতিবেগুনীরশ্মির কারিশমা কিংবা তুষার আর বরফে মোড়া প্রান্তরে প্রতিফলিত তীব্র সূর্যালোকে পিতৃপ্রদত্ত চোখগুলো নিশ্চয়ই অন্ধ করতে চাইবেননা কেউই!

সুতারাং এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আপনার ব্যাগে অবশ্যই একটা ভালো মানের অতিবেগুনীরশ্মিরোধক সানসক্রিম এবং সানগ্লাস থাকার প্রয়োজনীয়তা যথেষ্ট। এক্ষেত্রে একটা বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখবেন তা হলো, সানসক্রিমে সাধারণত পানি (অ্যাকুয়া) ব্যবহার করা হয় তাই বরফাচ্ছাদিত পর্বতারোহণে পানি(অ্যাকুয়া)  ব্যবহার করা হয়নি এমন সানসক্রিম ব্যবহার করুন। অন্যথায় ফ্রস্টবাইটে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। একইভাবে সানগ্লাসের ক্ষেত্রেও সাধারণ ট্রেকে UV Category -3 এবং পর্বতারোহণের ক্ষেত্রে UV Category -4 সানগ্লাস ব্যবহার করুন এবং অবশ্যই মনে রাখবেন আপনার সানগ্লাসে যেন সাইড প্রোটেকশন থাকে।

৩) উষ্ণতা এবং বৃষ্টি প্রতিরোধক ( ইনস্যুলেশন এন্ড রেইন প্রোটেকশন) :

যেকোন ভ্রমণ বা অভিযানে বিশেষ করে তা যদি হয় পার্বত্য কোন অঞ্চলে তাহলে আবহাওয়ার ইচ্ছেস্বাধীন আচরণের মাঝে পড়ে নাকানি চুবানি না খেতে চাইলে অবশ্যই আপনার ব্যাকপ্যাকে অতিরিক্ত শুকনা ও উষ্ণ কাপড়, জ্যাকেট, উইন্ড ব্রেকার এবং রেইনকোট বা পঞ্চ থাকা অত্যন্ত জরুরী।

আপনি হয়ত রৌদ্রজ্জ্বল ভোরে সানকিস নিতে নিতে পথচলা শুরু করেছেন, ভাবছেন আজ দিনটা চমৎকার। কিন্তু মুশকিল হল পর্বতের আবহাওয়ার শতভাগ নির্ভুল পূর্বাভাস কে-ই বা দিতে পার!! আপনার পুরো পরিকল্পনা এমনকি জীবনটা নিয়ে টানাটানি করতেই দেখবেন কিছুদূর যেতে না যেতেই হয়ত বৃষ্টি, স্নো-ফল, কিংবা জোরালো বাতাস শুরু হয়ে গেল। তাপমাত্রা নেমে গেল হিমাংকের নিচে। অথবা কোন একটা পাহাড়ি নদী পেরুতে গিয়ে আপনি ঝপাস করে পড়ে গেলেন হীমশীতল জলে। এমন অবস্থায় আপনার ব্যাগে যত্ন করে রাখা উষ্ণ কাপড় কিংবা বৃষ্টিরোধক ব্যবস্থাগুলোই আপনার একমাত্র অবলম্বন।

অভিজ্ঞ অভিযাত্রীদের মতে, আপনার সাথে অবশ্যই, থার্মাল ইনার (টপ/বটম), হ্যাট, ব্যানডানা বা বালাক্লাবা,  গ্লাভস, অতিরিক্ত মোজা, উষ্ণ প্যান্ট/ট্রাউজার, রেইন কোট, সাধারণ সিনথ্যাটিক/ ফ্লিস জ্যাকেট এমনকি ডাউন জ্যাকেট থাকা প্রয়োজন।

৪) পর্যাপ্ত আলো (ইলুমিনেশন) :

যে কোন ঝুকিপূর্ণ অভিযান, হাইকিং, ট্রেকিং, ক্যাম্পিং যেখানেই যান না কেন আপনাকে হয়ত একটা, দুটো দিন রাতের অন্ধকারে হাঁটতে হতে পারে। ধরুন আপনি সন্ধ্যা নামার আগে আপনার কাঙ্খিত গন্তব্য কিংবা ক্যাম্পসাইটে পৌঁছুতে পারলেন না অথবা আগামীকাল শেষ রাতের দিকে আপনি হয়ত রওনা দিবেন আপনার স্বপ্নের চূড়াটা সামিট করার উদ্দেশ্যে এমনকি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘুটঘুটে অন্ধকারে আপনার তাবু ছেড়ে বেরুতে হচ্ছে। এসব নানাবিধ পরিস্থিতির মোকবেলায় যে জিনিসটা আপনার একমাত্র সঙ্গী তা হল আপনার সাথে থাকা আলো।

যেকোন ভাল মডেল বা কোম্পানীর টর্চ লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে এক্ষেত্রে। তবে, সবচেয়ে সুবিধাজনক হল হ্যাডল্যাম্প। কপালে আটকে নেয়া যায় বিধায় হ্যাডল্যাম্প ব্যবহারের ক্ষেত্রে হাতগুলো ফ্রী থাকে। এছাড়াও একটা ভাল মানের হ্যাডল্যাম্প একটানা অনেকটা সময় জ্বলতে পারে এমনকি টীমের অন্যদের অথবা বিপদগ্রস্থ সময়ে নিজের অবস্থান জানাতে সিগনাল দেয়ার জন্য আধুনিক হ্যাডল্যাম্প গুলোতে থাকে সিগনাল বা এসওএস মোড। এই মোডে একটা হ্যাডল্যাম্প অবিশ্বাস্য সময় ধরে জ্বলতে সক্ষম। হ্যাডল্যাম্প ছাড়াও আপনি চাইলে যেকোন ভাল টর্চ কিংবা চার্জ লাইট ব্যবহার করতে পারেন যা সাধারণত অত্যন্ত ভাল আলো দিতে পারে।

হ্যাডল্যাম্প, টর্চ কিংবা অন্য যেকোন লাইট আপনি ব্যবহার করেন না কেন অবশ্যই মাথায় রাখবেন আপনার লাইটের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ব্যাটারি আপনার সাথে আছে কিনা। উল্লেখ্য যে, লাইট এবং ব্যাটারি শুধু আপনার নয় আপনার দলের সবার কাছেই আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে তবেই পথে নামুন।

৫) প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম (ফার্স্ট এইড কিট): 

গহীন অরণ্য, রুক্ষ পাথুরে পর্বত, বাড়ির কাছের সবুজ পাহাড় যেখানেই হোক না কেন আপনার গন্তব্য, আপনার পথের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে আছে অনেক বিপদ। পড়ে গিয়ে হাত পা ভাঙ্গার আশঙ্কা তো রয়েছেই সেই সাথে আছে ছোট-খাটো কাটাছেড়া, গোড়ালি মচকে যাওয়া এমনকি জুতোর বেরসিক ঘর্ষনে পায়ের চারপাশে ফোসকা পড়ে যাওয়া ইত্যাদি নানান ঝামেলা। এসকল ঝামেলায় আপনার যাদুর বাক্সটাই (ফার্স্ট এইড কিট) হয়ে উঠতে পারে আশীর্বাদ স্বরুপ।


ওয়ান টাইম ব্যান্ডেজ, বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের ব্যান্ডেজ, ক্র্যাব ব্যান্ডেজ, গজ প্যাড বা তুলো, মাইক্রোপোর টেপ, এন্টিসেপটিক অয়েন্টমেন্ট, ছোট্ট কাঁচি, ডিসপোজেবল গ্লাভস, পেইন কিলার, এন্টিবায়োটিক, মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন এবং ব্যক্তিগত অন্যান্য ঔষধ ইত্যাদি মিলিয়েই আপনার ফার্স্ট এইড কিট।

৬) আগুন জ্বালানোর সরঞ্জাম (ফায়ার স্টার্টার, ম্যাচ):

গহীন, দুর্গম, প্রতিকুল পরিবেশ যেকোন অবস্থাতেই উষ্ণতা, খাবার তৈরি, নিজস্ব প্রতিরক্ষা এমন সবকিছুতেই আগুনের প্রয়োজন অপরিহার্য। আগুন ছাড়া প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কোন মানুষ খুব বেশী সময় টিকতে পারার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর তাই নিশ্চিতভাবেই আপনার সাধের ব্যাকপ্যাকটায় আগুন জ্বালানোর নানাবিধ সরঞ্জাম থাকা বাধ্যতামূলক।


আগুন জ্বালানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকরি উপায় হল ম্যাগনেসিয়াম বা ফেরোসিরিয়াম দিয়ে তৈরি ফায়ার স্টার্টার। যেকোন তাপমাত্রা এবং আবহাওয়ায় আগুন জ্বালাতে সক্ষম এসব ফায়ার স্টার্টার আজকাল যেকোন আউটডোর গীয়ার শপে খুব সহজলভ্য। ফায়ার স্টার্টার ছাড়াও বাজারে পাওয়া যেকোন সাধারণ ম্যাচ বা লাইটারও আপনি সাথে রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে। এছাড়াও আগুন জ্বালাতে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে পেট্রোলিয়াম জেলী, মোম, কটন বল, কাঠের কিংবা কাঠ কয়লার গুড়ো, টিস্যু পেপার ইত্যাদি সাথে রাখা জরুরী। আর এই সবকিছুই সাথে রাখার ক্ষেত্রে জরুরী শর্ত হল ব্যাগে রাখার আগে অন্তত কয়েকবার যাচাই করে নিন আপনার আগুন জ্বালানোর জিনিসপত্র সব শতভাগ জলরোধী অবস্থায় আছে কিনা।

৭) সারাই করার জিনিসপত্র (রিপেয়ার কিট এন্ড টুলস) :

ছিড়ে যাওয়া ব্যাগ, জুতো, তাবু, মচকে যাওয়া ট্রেকিং পোল সারাই থেকে শুরু করে খাবার তৈরি, সেল্টার বানানো ইত্যাদি ইত্যাদি নানাবিধ কাজ সহজে সম্পন্ন করতে রিপেয়ার কিটের ভূমিকা অপরিসীম। যখন আমরা নিজেদের ঘরে থাকি তখন এসব সমস্যা নিতান্তই ক্ষুদ্র মনে হলেও যেকোন অভিযানে এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো যে কি পরিমাণ ঝামেলার তা শুধু বিপদে পড়লেই বোঝা যায়।

একটা উপযুক্ত রিপেয়ার কিট সবসময় আপনার অভিযানের জন্য গুছিয়ে রাখুন। যেখানে ভাল মানের একটা ছুরি, ছোট্ট একটা প্লায়ার্স, ছোট দুইটা ফ্ল্যাট এবং স্টার স্ক্রুড্রাইভার, এল কি সেট (প্রয়োজন সাপেক্ষে), কটন এবং নাইলনের সুতা, নিডল বা সুঁই, জুতো সেলাই করার ভ্রমর (সুঁই), চিকন তার (গুনার তার), একটা ভাল হালকা কাঁচি, পেপার নাইফ, সেফটিপিন, মাল্টিটুলস কিট ইত্যাদি যত্ন করে রাখা থাকবে। একটা জিনিসের কথা আলাদাভাবে না বললেই নয় তা হল ডাক্ট টেপ। যেকোন হার্ডওয়ার শপে খুবই সহজপ্রাপ্য এই টেপটি দিয়ে করা যায়না এমন কোন কাজ নেই। তাই সবকিছুর সাথে অবশ্যই একটা ভাল মানের ডাক্ট টেপ আপনার রিপেয়ার কিটে রাখতে ভুলবেননা।

৮) অতিরিক্ত খাবার (নিউট্রিশন) :

উষ্ণতা এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে খাবার অনিবার্য শর্ত। যেকোন অভিযানে পুরো দলের সবার নির্দিষ্ট দিনের জন্য প্রয়োজন এবং পরিমানমাফিক খাবার থাকেই। কিন্তু কি হবে যদি এমন হয় আপনার নির্ধারিত দিনের মাঝে অভিযান শেষ করা সম্ভব হয়নি অথবা কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা এমন কোন পরিস্থিতিতে আপনার আরো দুয়েকটা দিন আটকে পড়ে থাকতে হচ্ছে!

এধরণের পরিস্থিতির মোকাবেলায় অবশ্যই আপনার এবং আপনার দলের সবার সাথেই অন্তত দুদিন চলার মত অতিরিক্ত খাবার বহন করুন। যেকোন খাবারই এই অতিরিক্ত তালিকায় রাখতে পারেন তবে খুব ভাল হয় যদি এমন কিছু খাবার রাখা যায় যেগুলো রান্না করার প্রয়োজন পড়বেনা কিন্তু নিউট্রিশন ভ্যালূ উচ্চমানের। এক্ষেত্রে এনার্জি বার বা হাই-প্রোটিন বিস্কুট, বাদাম, খেজুর, ক্যানে সংরক্ষণ করা ফল, চকোলেট ইত্যাদি খাবার রাখতে পারেন নিশ্চিন্তে।

৯) খাবার জল (হাইড্রেশন) :

খাবার জল ছাড়া যেকোন পরিবেশ, পরিস্থিতিতে মানুষ তিন থেকে চারদিনের বেশী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। প্রচন্ড গরম, তীব্র ঠান্ডা, শারিরিক পরিশ্রম সবকিছুতেই আপনার শরীর খুব দ্রুত জল-শূন্যতায় আক্রান্ত হবে। আর দুর্গম পরিবেশে এমন পরিস্থিতির একটাই ঠিকানা তা হল, মৃত্যু। অতএব, আপনার ব্যাকপ্যাকের সাথে থাকা জলভর্তি বোতলটার দাম অনেক অনেক বেশী।

শারিরিক সুস্থতা এবং সক্ষমতা নিশ্চিত করতে একজন মানুষের প্রতিদিন অন্তত দুই লিটারের বেশী জল পান করা প্রয়োজন। অতএব, যেকোন হাইকিং, ট্রেকিং, পর্বতারোহণ অভিযানে আপনার এবং দলের সবার সাথেই অন্তত এক লিটার করে জল বহন করা বাধ্যতামূলক। এছাড়াও যেকোন অভিযানের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবেই আপনার ম্যাপ এবং জিপিএসে সম্ভাব্য সকল জলের উৎসগুলো চিহ্নিত করে রাখুন এবং অভিযানের সময় শেষ জলের উৎসটার ব্যাপারে সহস্রভাগ সচেতন থাকুন।

জলপান করার ক্ষেত্রে একটা আবশ্যক বিষয় হল জল পরিশোধন। দূষিত জল পান করার পরিণতি নিয়ে নিশ্চয়ই নতুন করে কিছু বলার নেই। বাড়ি থেকে দূরের দূর্গমতায় জল দেখতে যতই স্বচ্ছ, স্নিগ্ধ দেখাক না কেন আপনার উচিত অবশ্যই তা সুনির্দিষ্ট উপায়ে পরিশোধিত করে পান করা। আর তাই জলের মতই আপনার ব্যাকপ্যাকে ওয়াটার ফিল্টার অথবা জল পরিশোধন করার ট্যাবলেট থাকা অপরিহার্য।

১০) ইমার্জেন্সি শেল্টার :

যেকোন অভিযানে যাচ্ছি আর সাথে তাবু থাকবেনা তা কি হয়! প্রযুক্তির কল্যাণে তাবুগুলো এখন নানান সুবিধা নিয়েই তৈরি হয়। গ্রীস্মকালীন তাবু, বর্ষার জন্য তাবু, প্রচন্ড ঠান্ডা কিংবা পর্বতারোহণের জন্য নির্দিষ্ট তাবু আরো কত কি। কিন্তু যদি বিষয়টা এমন হয় আপনি আপনার তাবু থেকে দূরে কোথাও দূর্ঘটনা আক্রান্ত হয়ে পড়ে রইলেন অথবা, কোন কারণে আপনার তাবুটা ঠিকঠাক কাজ করছেনা এমতাবস্থায় বাতাস, বৃষ্টি কিংবা ঠান্ডা থেকে পরিত্রাণের উপায় যদি আপনার না থাকে তাহলে পিতৃপ্রদত্ত প্রাণটা নিয়ে বাড়ি ফেরা না হবার সম্ভাবনাই বেশী।

এ ঝুঁকি এড়াতে আপনার সাথে সবসময় একটা বিকল্প প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা রাখুন। একটা হালকা এবং ভাল মানের প্লাস্টিক শিট, একটা ইমার্জেন্সি থার্মাল ব্লাংকেট, কিছু প্যারাকর্ড বা চিকন দড়ি এবং অন্তত দুটো বড় সাইজের পলিথিনের গার্বেজ ব্যাগ সাথে রাখুন। যা দিয়ে আপনি অনায়াসে একটা দারুণ শেল্টার বানিয়ে নিতে পারবেন যেকোন পরিস্থিতিতে।

পাহাড় পর্বতের পথে এই দশটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিস ছাড়াও বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাসকিউটো/ইনসেক্ট রিপেলেন্ট, হুইসেল, স্যাটেলাইট ফোন, লোকেটর বীকন ইত্যাদি নানান জিনিস রাখতে পারেন। হয়ত এই বাড়তি জিনিসগুলোর প্রায় অনেকগুলোই আপনার কোন কাজে আসবেনা কিংবা এসব বহন করতে গিয়ে আমাকে গালিও দেবেন দুয়েকটা কিন্তু যেদিন প্রয়োজন পড়বে সেদিন এই লেখাগুলো লিখে আমি কেন আপনার ব্যাকপ্যাকের ওজন বাড়িয়েছিলাম তা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন সেটা নিশ্চিত।


পুনশ্চ: ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। অপচনশীল যেকোন আবর্জনা যেমন পলিব্যাগ, বিভিন্ন রকম প্লাস্টিক প্যাকেট, যে কোন প্লাস্টিক এবং ধাতব দ্রব্য ইত্যাদি নিজেদের সাথে নিয়ে এসে উপযুক্তভাবে ধ্বংস করুন। এই পৃথিবীটা আমাদের অতএব, এটাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।