একরকম বাধ্য হয়েই বেড়াতে যেতে হল মালয়েশিয়া । গতানুগতিক আধুনিক শহর, ফ্যান্টাসি পার্ক, জাদুঘর, সমুদ্র এসব আমাকে খুব একটা টানেনা। তাই কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টারের আশে পাশে হাঁটাহাঁটি করে জনজীবন দেখা ছাড়া আর কি কি করা যায় তাই ভাবছিলাম। পর্যটকদের সবাই প্রায় ১৫ কিমি দূরের বাটু কেভ দেখতে যায়, সেই পথ অনুসরণ করে আমরাও গেলাম।

বাটু কেভ প্রাকৃতিক কেভ কিন্তু সেখানে কিছু স্থাপনা করে দর্শক আকর্ষন বাড়াতে গিয়ে নস্ট করা হয়েছে এর আসল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। তাই সেটা আর বেশীক্ষণ ধরে রাখতে পারলনা আমাকে। গুগলের সুবাদে জানতে পারলাম কাছেই একটা রক ক্লাইম্বিং এরিয়া আছে। বাটু কেভের ঘুরোঘুরি শেষ করে ম্যাপ আর ট্যাক্সির সাহায্য নিয়ে চলে গেলাম পাশের সেই রক ক্লাইম্বিং জোনে।

মালয়েশিয়া -র গুয়াদামাইতে অবস্থিত এই রক ক্লাইম্বিং ফেসটা অনুশীলনের জন্য অনেক বিখ্যাত। সারা পৃথিবী থেকে ক্লাইম্বাররা এখানে আসে ক্লাইম্বিং অনুশীলন করতে। ক্লাইম্বিং এর জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নিজেদের সংগ্রহে থাকলেও কোন পূর্ব পরিকল্পনা না থাকায় সেগুলো সাথে ছিলনা। ওখানে একটা দোকান আছে যারা ক্লাইম্বিং এর জিনিসপত্র ভাড়া দেয়। কিন্তু সেদিন ছিল তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কাজেই ওখানে গিয়ে চুপচাপ বসে বসে অন্যান্য ক্লাইম্বারদের ক্লাইম্বিং দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিলনা। ৮-১০ জনের একটা দল অনুশীলন করছিল, তারা সবাই ছিল এক পরিবারের সদস্য। তাদের সাথে একথা সেকথা বলতে বলতেই বেশ কথা জমে গেল। এক সময় তাদের দলনেতা জিজ্ঞাসা করেই ফেলল যে আমরা ক্লাইম্বিং অনুশীলন করতে আগ্রহী কিনা। এমন সুযোগ হাতছাড়া করার নয় তাই নির্দ্বিধায় হ্যাঁ বলে ফেললাম।

আমার পরনে ক্লাইম্বিং এর উপযোগী পোশাক ছিলনা। আমার নগ্ন হাঁটু যখন পাথুরে দেয়ালে বাড়ি খাচ্ছিল তখন ভাবলাম বেড়াতে এসে ব্যথা পেয়ে কাজ নেই। নেমে এলাম তড়িঘড়ি করে কিন্তু আমার ভ্রমণসঙ্গী অপূ তরতর করে বেয়ে উঠে গেল বেশ অনেকখানি। আর অপূর সেফটি দড়ি ধরে রেখেছিল এক মেয়ে যে হল দলনেতার স্ত্রী। এই ক্লাইম্বার দম্পতি তাদের ছোট্ট ছেলেমেয়েদেরও নিয়মিত প্রশিক্ষণ করায় ওই পাথুরে দেয়ালে। এবং এই বাচ্চাগুলো এখনই এত দক্ষ যে এরা বড় হয়ে যে কি করবে তাই ভেবে পাইনা।

মালয়েশিয়া বেড়াতে যেয়ে সবার উচ্ছাস থাকে পেট্রোনাস টাওয়ারকে পেছনে রেখে সেলফি তোলাতে কিংবা ল্যাংকাউয়ির সমুদ্রতটে একটা বেলা অলস কাটানোর চিন্তায়। সেই সাথে ডন সিনেমার শ্যুটিং করা স্কাই ব্রিজতো আছেই। কিন্তু এসবে আমার মন ভরেনা। কখন, কিভাবে যেন রুক্ষ পাহাড়ের সাথে প্রেম হয়েছিলো জানা নেই কিন্তু সেই প্রেমের টানেই আজ অবধি যেখানেই যাই না কেন, সব বাদ দিয়ে খুঁজে বের করি রুক্ষ, সুদৃড়, কঠিন পাহাড়গুলোকেই…!!!

***আমাদের আরো ভিডিও-র জন্য ক্লিক করুন অথবা সাবসক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে***


পুনশ্চ: ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। অপচনশীল যেকোন আবর্জনা যেমন পলিব্যাগ, বিভিন্ন রকম প্লাস্টিক প্যাকেট, যে কোন প্লাস্টিক এবং ধাতব দ্রব্য ইত্যাদি নিজেদের সাথে নিয়ে এসে উপযুক্তভাবে ধ্বংস করুন। এই পৃথিবীটা আমাদের অতএব, এটাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।