খাঁড়া একটা বালুর ট্রেইল। বড় বড় মোটা দানার কালো বালু তাও আবার ভেজা, স্যাতস্যাতে। পা রাখার পর যথাস্থানে পা রাখাটাই যেন একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ। বারবার পিছলে যাওয়া পা নিয়ে, দুই পা আগাই এক পা পিছাই এমন করতে করতে অবশেষে মাউন্ট বাটুর সামিটে পৌঁছে গেলাম। সামিটে বসার জন্য দুটো বেঞ্চ ছিল। বেঞ্চে বসে ক্লান্ত শ্রান্ত আমি মন ভরে দেখে দেখে নিচ্ছিলাম চারিদিক। মেঘেদের উড়োউড়ি, বাতাসের একটানা শব্দ, দূরের পাহাড়, নান্দনিক নৈসর্গ সব কিছু যেন আমার অপেক্ষাতেই ছিল। টুকরো টুকরো মেঘ এসে ভিজিয়ে দিয়ে যাচ্ছিল কিছুক্ষণ পর পরই। মাউন্ট বাটুরের চূড়ার একেবারে সামনেই মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকা ৩০৩১ মিটার উচ্চতার মাউন্ট আগুংকে দেখে মনে হচ্ছিলো যেন পথ আগলে দাঁড়িয়ে থাকা রূপকথার কোন অতিকায় দানব। মাঝে মাঝেই মেঘ এসে সব দৃশ্য আড়াল করছিল। আবার মেঘ সরে গেলেই দেখতে পাচ্ছিলাম অকৃপণ অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ যেন মেঘের চাদর জড়িয়ে পৃথিবীর লুকোচুরি।


পুনশ্চ: ঘুরতে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলবেন না। অপচনশীল যেকোন আবর্জনা যেমন পলিব্যাগ, বিভিন্ন রকম প্লাস্টিক প্যাকেট, যে কোন প্লাস্টিক এবং ধাতব দ্রব্য ইত্যাদি নিজেদের সাথে নিয়ে এসে উপযুক্তভাবে ধ্বংস করুন। এই পৃথিবীটা আমাদের অতএব, এটাকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমাদের।