ভেবে দেখুন, ছুটে চলেছেন পানির উপর দিয়ে। বোট বা নৌকোতে চেপে নয়, মাধ্যাকর্ষণের সকল নিয়ম উড়িয়ে নিজের পায়ে ভর দিয়েই। আপনার-আমার পক্ষে স্বপ্ন ছাড়া বাস্তবে তা সম্ভব না হলেও এই ক্ষুদে রাজার পক্ষে তা খুবই সম্ভব। পানির উপরিতলে চলার এ ক্ষমতা যীশু খ্রীস্টের পানির উপর দিয়ে হেঁটে চলার ক্ষমতার সাথে মিলে যাওয়ার কারণেই দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ মেক্সিকো থেকে পানামার সুবিস্তীর্ণ অঞ্চলের নদীঘেঁষা এবং রেইনফরেস্ট অঞ্চলের ইগুয়ানা প্রজাতির এই লিজার্ডগুলোকে জিসাস ক্রাইস্ট বেসিলিস্ক ( Jesus Christ Basilisk কিংবা Jesus Christ Lizard ) নামে ডাকা হয় যার বৈজ্ঞানিক নাম Basiliscus plumfrons

অসাধারণ সবুজ এই লিজার্ড ঘন জঙ্গলে নিজেকে শিকারীর হাত থেকে বাঁচাতে ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে ঘন্টার পর ঘন্টা,  এক্ষেত্রে এদের  অনন্য ক্যামোফ্লেজ বৈশিষ্ট্য বিপন্ন পরিস্থিতিতে নিজেকে শিকারীর হাত থেকে আড়াল করার সুযোগ করে দেয়। মূলত গাছে বাস করলেও নিজেকে পানির কাছ ছাড়া করে না এই Jesus Christ Lizard। বিপদ বুঝতে পারলে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে নেমে পড়ে পানিতে এবং পানির উপর একবারের জন্যেও না ডুবেই এক দৌড়ে পার হয়ে যেতে পারে প্রায় ১৫ ফুট দূরত্ব অব্দি। আর তাতেও যদি নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত না হয় তবে দক্ষ সাঁতারুর মতো সাঁতরে চলতেও এদের জুড়ি নেই। Jesus Christ Lizard পানির নিচেও ঘাপটি মেরে বসে থাকতে পারে ২০-৩০ মিনিট পর্যন্ত। বিশেষ ধরনের পা এবং অসাধারণ দৌড়ানোর পদ্ধতি এদের পানিতে ডুবতে না দিয়ে উল্টো ভাসিয়ে রাখে।

পুরুষ Jesus Christ Basilisk কিংবা Jesus Christ Lizard এর মাথা, পিঠ এবং লেজে মুকুটসদৃশ ঝুঁটি দেখা যায় যা মূলত নারী বেসিলিস্কদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে এরা ব্যবহার করে থাকে। অপরদিকে স্ত্রী বেসিলিস্ক -এর গায়ে ছোট আকারের ঝুঁটি দেখা যায়। ডিম ফুটে বের হওয়ার পর থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়ে প্রজননে অংশগ্রহণ করা পর্যন্ত এদের ১৮ – ২৪ মাস সময় প্রয়োজন হয়। মা Jesus Christ Lizard অপেক্ষাকৃত শুষ্ক এবং নিরাপদ জায়গায় গর্ত খুঁড়ে একেকবারে প্রায় ১০-২০ টি ডিম পেড়ে থাকে। একেকটি বাচ্চা Jesus Christ Lizard এর ওজন প্রায় ২ গ্রাম এবং লম্বায় প্রায় ৩ ইঞ্চির মতো হয়ে থাকে। পূর্ণবয়স্ক একেকটি Jesus Christ Lizard এর ওজন প্রায় ২০০-২৫০ গ্রাম এবং চাবুকের মতো লেজসহ লম্বায় প্রায় ২.৫ ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সর্বভুক এই প্রাণীর খাদ্যতালিকায় রয়েছে ছোট যত কিছু। যেমন – গুবরেপোকা, গঙ্গাফড়িং, ফুল, ফল, বিভিন্ন উদ্ভিদ, মাকড়শা, শামুক, টিকটিকি, মাছ, ডিম, পাখি, সাপ প্রভৃতি। অন্যদিকে বড় সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী এবং কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর শিকারে পরিণত হয় এই সবুজ বেসিলিস্করা। তবে শিকারীর হাত থেকে এভাবে দৌড়ে, সাঁতরে, লুকিয়ে নিজেকে সর্বোচ্চ ১০ – ১২ বছর অব্দি বাঁচিয়ে রাখতে পারে এরা। তবুও সুখবর এই যে, অন্য আরো অনেক প্রাণীর মতো এখনো বিলুপ্তির হুমকিতে নেই এখনো এই ক্ষুদে রাজারা।